রাজশাহী বিভাগ

বাজারে আম ৫-৬শ টাকা মণ, খোঁজ নেই পাইকারীদার’দের।

রাজশাহী ব্যুরো : শিবলী সরকার (নবু)

বাজারে আম ৫-৬শ টাকা মণ, খোঁজ নেই পাইকারীদার’দের।
রাজশাহী ব্যুরো : শিবলী সরকার (নবু)
রাজশাহীর বাজারে গুটিজাতের আম নামতে শুরু করেছে। আগামি ২০ মে থেকে নামার কথা রয়েছে গোপালভোগ জাতের আম। কিন্তু এখনো দেখা মিলছে না পাইকারদের। ফলে এখনো আম বিক্রি করতে পারছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে গুটিজাতের আম কিনে আঁচার তৈরী করতে কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী আসছেন। তবে সেটিও হাতেগোনা কয়েকজন। ফলে গুটিজাতের আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে। এদিকে বাগানের আম পোক্ত হয়ে বাজারজাত শুরু হলেও এখনো খোঁজ মিলছে না পাইকারী ক্রেতাদের। যারা অন্যনান্যবার আরও এক-দুই মাস আগেই বাগান ধরে আম কিনে নিতেন। কিন্তু এবার রাজশাহীতে পাইকারদের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা। এভাবে চলতে থাকলে সামনে ভালো জাতের আম নামতে শুরু করলেও তেমন দাম পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এতে করে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষীদের মাঝে। রাজশাহীর বৃহৎ বানেশ্বর বাজারে খোঁজ নিয়ে যায়, এ বাজারে কয়েকদিন থেকেই আম জড়ো হয় সর্বোচ্চ ২০০ মণ। কিন্তু এই আম কেনারই তেমন ক্রেতা ছিলো না। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা এসে আমগুলো কিনে নিয়ে যান। তবে আমচাষীরা ন্যায্যমূল্য পাননি বলে দাবি করেন তারা। তাদের দাবি, অন্যান্য বছর গুটিজাতের আম বিক্রি হয় ৮০০ থেকে শুরু করে ১২শ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এবার ক্রেতা না থাকায় সেই আম বিক্রি করতে হচ্ছে অনেকটা পানির দাম। কিছু ক্রেতা আসছেন, তারা আচার কম্পানীর কাছে আম বিক্রি করবেন। কিন্তু গুটিজাতের আম কেনার বড় পাইকার প্রাণ গ্রুপ এখনো আম কিনতে বাজারে নামেননি। ফলে এবার আমের দাম শুরুতেই অনেকটা কম বলে দাবি করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে আম বিক্রি করতে যাওয়া চারঘাটের ইউসুফ আলী বলেন, ‘এবার আমের ক্রেতা নাই। অথচ গত ১৫ মে থেকে আম নামতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করার লোক পাচ্ছি না। বানেশ্বর হাটে নিয়ে এসেও দাম পাচ্ছি না তেমন। এমনিতেই এবার আমের ফলন ভালো হয়নি। তার ওপর দাম এভাবে কম পেতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে। আমচাষি দুর্গাপুরের আলতাফ হোসেন বলেন, ক্রেতা নাই। তবে, বাধ্য হয়ে নিজেই আম ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। করোনার কারণে ক্রেতারা আসছে না এখনো। বাগানের আমও বিক্রি হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বো। অথচ অন্যান্যবার আরও দুই মাস আগেই বাগান থেকেই চুক্তিতে বেশিরভাগ চাষি আম বিক্রি করে দিতেন। এবার ক্রেতা না থাকায় সেটিও বন্ধ হয়ে আছে। আবার হাটেও ক্রেতা আসছে না। তাহলে চাষিরা যাবে কোথায়?’ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, রাজশাহীর বাহির থেকে আমের ক্রেতারা আসলে তাদের সরকারীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। কোন ভাবেই রাজশাহীর ঐতিহ্য আমের কোন ক্ষতি হতে দেয়া যাবে না। আর কোন বাগানী ক্ষতিগ্রস্থ হোক তাও আমরা চাই না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক সহযোগীতা করা হবে বলেও জানান তিনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close