অপরাধ

রাজশাহীর বাগমারায় ছিনিয়ে নেয়া আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা পুলিশ

খোরশেদ আলম রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারায় বাসুপাড়া ইউনিয়নের জ্যোতিনগঞ্জ স’মিল থেকে গ্রেপ্তারকৃত আসামী জাবের আলীসহ ছিনতাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত কোন আসামীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি বাগমারা থানার পুলিশ। ওই দিনের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আসামী ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি সাধারন ডাইয়েরী করেছেন। পুলিশের এমন ভুমিকা নিয়ে এলাকার জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। জাবেরকে গ্রেপ্তার না করলে যে কোন সময় এলাকায় আবারো অঘটনের সম্ভবনা রয়েছে বলে আতংকে রয়েছে সাধারন লোকজন।এলাকাবাসী জানায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের লাখকাটির বিলসহ একাধিক বিলে মাছ চাষ শুরু করে এলাকার মৎস্য চাষীরা। ওই সকল বিলের মাছ দেখাশুনা ও বিক্রির দায়ীত্ব দেয়া হয় জাবের আলীর উপর। মাছ বিক্রির টাকার গড়মিল দেখা দেওয়ায় অন্যান্য মৎস্য চাষীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য চাষীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে মাছ বিক্রির দায়ীত্ব থেকে জাবের আলী সরিয়ে দেন মৎস্য চাষীরা। তখন থেকেই মৎস্য চাষীদের সাথে জাবের আলীর ঝামেলা শুরু হয়। ওই সকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাবের আলী এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করতে তান্ডব চালাতে শুরু করেন। তার তান্ডবে এলাকায় একাধিক মানুষ বঙ্গুত্ব বরন করেছেন বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্কুল শিক্ষকও।
ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী যুবলীগ সভাপতি মোজাহার হোসেন ও আ’লীগ কর্মী সাইদুর রহমান জানান, জাবের আলী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। চলতি বছরে তার হাতে স্কুল শিক্ষকসহ অর্ধশত লোক নির্যাতনের শিকার হন। তার নির্যাতনে ৮/১০ জন পুঙ্গত্ব বরন করেছেন। নির্যাতিতা হলেন মন্দিয়াল গ্রামের আব্দুল মান্নান (৪৫) মোজাম্মেল হক (৫২) শিতল মাষ্টার (৩৮) কালু মিয়া (৫২) হলুদঘর গ্রামের জালাল উদ্দীন বীরকয়া গ্রামের মোবারক হোসেন (৩৫) আনিছার রহমান(৪৫) ফরহাদ হোসেন(৩৬) ও মকলেছুর রহমান(৩৮)।
সর্ব শেষ চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর বীরকয়া এলাকায় মোবারক হোসেনের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে জাবের আলী ও তার দলবল। ওই ঘটনায় মোবারক হোসেনের স্ত্রী নাজমা বিবি বাদী হয়ে জাবের আলীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১৯ ডিসেম্বর বাগমারা থানা পুলিশ জ্যোতিনগঞ্জ বাজার থেকে জাবেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পথে তার লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়। খবর পেয়ে বাগমারা থানার অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং জাবেরসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার জন্য রাতভর অভিযান চালায়। জাবেরকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে পুলিশ রাতেই তার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারন ডাইয়েরী করে।
এলাকার লোকজনের অভিযোগ জাবের আলী আদালত থেকে জামিন না নিয়ে এলাকার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার না করলে যে কোন সময় আবারো অঘটনঘটার সম্ভাবনা রয়েছেন বলে এলাকার একাধিক মানুষ জানিয়েছেন।জাবেরকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সাধারন মানুষ। তাদের অভিযোগ বাগমারা থানার পুলিশের সাথে জাবেরের সক্ষতা থাকার কারনেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছেন না। যার কারনে এলাকার আইন শৃংখলার অবনতি হওয়ার সম্ভবনা তাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেপ্তার করছেন না  এমন প্রশ্ন সাধারন মানুষের। তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নাম জানাতে অনিচ্ছুক পুলিশের এক সদস্য জানান ওসি সাহেব অসুস্থ্য থাকার কারনেই থানায় এমন ঘটনা ঘটছে। দায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) দায়ীত্ব থাকার কারনেই জাবের গ্রেপ্তার হচ্ছে না। ওসি আতাউর রহমান সুস্থ্য থাকলে জাবের আলী অনেক আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হত বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন জাবের আলীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তিনি এলাকায় না থাকার কারনে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close