
মুন্সিগঞ্জের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আব্দুল হাই ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে মুন্সিগঞ্জসহ পুরো দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তাঁর পিতার নাম মনির উদ্দিন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে স্থানীয় পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর জনপ্রতিনিধি হিসেবে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে উজ্জ্বল ভূমিকা
আব্দুল হাই তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত সফল একজন সংসদ সদস্য ও সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে একবার ঢাকা-৮ আসন থেকে এবং চারবার মুন্সিগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করেছেন।
শোক প্রকাশ ও শেষ বিদায়
প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং তাঁর অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংকটে আব্দুল হাইয়ের অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রথমে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এবং পরবর্তীতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর প্রিয় জন্মভূমি মুন্সিগঞ্জে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা রয়েছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ জননেতা হিসেবে আব্দুল হাই মুন্সিগঞ্জবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।