অপরাধআইন আদালতআন্তর্জাতিক
রক্তস্নাত গাজা: দায়ের আপেক্ষিক বিশ্লেষণ-এডভোকেট নোমান হোসাইন তালুকদার
অনলাইন ডেস্ক


রক্তস্নাত গাজা: দায়ের আপেক্ষিক বিশ্লেষণ
অবশেষে হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাধ্যমে রক্তস্নাত গাজা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়া শুরু করেছে। এই অসম যুদ্ধে জড়ানোর পূর্বে বর্তমান যুগে ইসলামের ধারক-বাহক মনে করা হামাস রাসুল (স:) এর মদীনায় হিজরত বা হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রকৃত মাহাত্ম্য বা শিক্ষাটা উপলব্ধি করতে পারেনি। ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুল (স:) যদি মদীনায় হিজরত না করতেন বা হুদাবিয়ার সন্ধির মত সন্ধি না করতেন তাহলে হয়তোবা তখনকার অনেক সাহাবী শাহাদাৎবরণ করতেন কারণ তখন স্বল্প সংখ্যক সাহাবি ও হাতিয়ার নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করা কঠিন ছিল বিধায় তিনি হিজরত বা হুদাইবিয়ার সন্ধির মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে শক্তি সামর্থ্য অর্জন করে বিনা রক্তপাতে মক্কাবিজয় করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয় হামাস এই সত্যটা বা মাহাত্ম্যটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করায় গাজা আজ ধ্বংসপ্রায়।
যেখানে হামাস জানে আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে তারা ইসরাইল থেকে অনেক পিছিয়ে সেখানে তারা কৌশল অবলম্বন করে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে পারতো কিন্তু হামাস সেটা না করে ইসরাইলে আগ বাড়িয়ে হামলা করে নিজের ভূখন্ড ও দেশের সাধারণ মানুষদের জীবন নরকে পরিনত করে দিয়েছে। ইসরাইল অবশ্যই গাজার এই ধ্বংশযজ্ঞের জন্য পুরোপুরি দায়ী কিন্তু হামাস কোনভাবেই এই দায় এড়াতে পারেনা। ইসরাইলকে মোকাবেলা করার শক্তি ও সামর্থ্য না থাকার পরেও হামাস কর্তৃক ইসরাইলের সাধারণ নাগরিকদের উপরে হামলা করে ইসরাইলী ফাঁদে পা দেয়ার পরিণতি আজকের গাজা। রাসুল (সঃ) এর পুরো জীবনী অনেক বৈচিত্র্যতায় ভরপুর কারণ তাতে রয়েছে মুসলিমদের জন্য আজীবনের শিক্ষা কিন্তু বর্তমান সময়ের ইসলামের ধারক বাহকেরা সেটা থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং মুসলিম জাতীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আলোচনায় যদি এখন বসাই যায় তাহলে শুরুতে কেন আলোচনা না বসেই আগ বাড়িয়ে হামলা করলো হামাস এই প্রশ্নটা আমাদের সবার মনে। সার্বিক বিবেচনায় হামাসের উচিত আরো কৌশলী হয়ে নিজের দেশের মানুষদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নোমান হোসাইন তালুকদার
এডভোকেট (আপীল বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট








