শ্রীনগরে বাড়িতে ঢুকে প্রবীণ ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর নারকীয় হামলা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক’-এর সরজমিনে তদন্তের উদ্যোগ।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা:


মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়েখালী গ্রামে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোঃ রফিক (৬৪) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, রক্তক্ষয়ী জখম ও শ্লীলতাহানির একটি ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও জীবননাশের হুমকিতে দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর কাছে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) আনুমানিক বিকাল ৫:০০ ঘটিকায় বাড়েখালী গ্রামের মৃত বিনোদ বেপারীর ছেলে মোঃ রফিক (৬৪)-এর বসতবাড়ির উঠানে অভিযুক্ত বজলুর রহমান, আতিকুর রহমান অর্ণব ও আরাফাত রহমান আরাফসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে (চাপাতি, দা ও লোহার শাবল) সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি রফিকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আসামি সাদ্দাম/সালাম তাঁকে লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। প্রবীণ রফিককে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও পুত্র সালমান মাহমুদ সাকিব এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের দায়ের কোপে পুত্রের ডান চোখের ওপরে গুরুতর জখম হয় (যেখানে ৩টি সেলাই লাগে) এবং লোহার শাবলের আঘাতে স্ত্রী ও পুত্র রক্তাক্ত হন। এতে রফিকের স্ত্রীর কোমরের হাড় স্থানচ্যুত হয়। এছাড়া হামলাকারীরা স্ত্রীর পরিধেয় বস্ত্র টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং পরিবারটিকে ভবিষ্যতে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
উক্ত বর্বরোচিত ঘটনায় পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-০৩ এ একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয় (ধারা: ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩৫৪/৩০৭/৫০৬/১৪৩ দণ্ডবিধি)।
আসক ফাউন্ডেশনের পদক্ষেপ
ঘটনাটিকে একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক’ ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আইজিপি বরাবর একটি লিখিত অবহিতকরণ ও আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আসক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ সত্যতা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল মাঠপর্যায়ে সরজমিনে তদন্ত পরিচালনা করবে। এজন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার গ্রহণে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা ও আইনগত নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আইজিপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন সহায়তাকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, দেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকার সনদের আলোকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে অপরাধীরা বিচারের আওতায় আসবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন








