শিশু রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত তা কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ভোরের আলো সাহিত্য আসর।
রিপোর্ট করেনঃ কিশোরগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আরিয়ান ফারসী


শিশু রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত তা কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ভোরের আলো সাহিত্য আসর।
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
আজ ২২মে (শুক্রবার) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ সদর থানা মার্কেটস্থ মডার্ণ ডেন্টাল চিকিৎসা কক্ষে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রেজাউল হাবিব রেজার সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিআরডিবির সাবেক পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নিজাম উদ্দিন।
বিক্ষোভ সমাবেশে হাজির হন কবি-সাহিত্যিক,শিল্পী, ছড়াকার ও আলোচকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শিল্পীরা তাদের গানে গানে রামিসা হত্যার বিচার চান। কবিরা পদ্যাকারে বাক্যালংকার প্রয়োগে আবেগ ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন তাদের ছন্দাবদ্ধ কবিতায়। আলোকচকরা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে এর প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করেন তাদের বক্তৃতায়।
শিল্পী-কবি ও আলোচকদের মুখে একটাই বক্তব্য, “আগের শিশু হত্যার অভিযোগের কোনো বিচার না হওয়াই শিশু রামিসার এই ভাগ্যবরণ” আজ। বিচার আশ্বাসবানী আরো কাউকে আশ্বস্থ করতে পারছেনা বলেই আস্থাহীনতার জায়গায় এসে রামিসার বাবা বলছেন “আমি রমিসার হত্যার বিচার চাইনা। আপনারা এর বিচার করতে পারবেন না। আমি সেটা লিখে দিতে পারি।”
সত্যি বলেছেন তিনি। কারণ ইতিপূর্বে এমন আরো শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই। তাই এ বিক্ষোভ সমাবেশে আগ্নেয়গিরি লাভা উদগীরণে মতোই প্রতিটি কলম সৈনিক তাদের স্ব- স্ব মহিমায় জ্বলে ওঠেছিলো। উপস্থিত কলমসৈনিকগন জানান দিয়েছে যে, এখন আর প্রতিবাদ নয় প্রতিরোধের পালা।
একপাশে গান গাইবো,কবিতা লিখবো আর অপর পাশে আমাদের দু’হাত ও মেধাকে প্রয়োগ করবো সরাসরি লম্পট,ধর্ষক ও খুনিদের মাথায়।
এ প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে গানের বিপ্লবী ধারা উচ্চারন করেন শিল্পী কবির সরকার। কবিতার প্রতি পক্তিতে অগ্নিলাভা উদগীরণ করেন লেখক এসকে রাজু, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধী গানের ঢেও তুলেন সাহিত্য সম্পাদক মুর্তাজা জামাল। বক্তব্যে বিচারের গতি ত্বরান্বিত করতে স্পিরিচুয়েল উক্তি ছুঁড়েন বিশিষ্ট আলোচক সাদেকুজ্জামান সোহাগ। শিক্ষক আকরাম হোসেনের আলোচনা যেন “তাৎক্ষণিক লড়াইয়ে” অবদান রাখার বার্তা দেয়। বেড়াতে গিয়েও আত্মীয়তার শেকল ছিঁড়ে অনুষ্ঠানে ছুটে এসেছিলেন জ্ঞান তীর্থ গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর অলিক। আত্মবিশ্লেষণে বিচারের সাফল্যের পথ দেখান সংগ্রামী কবি মলং আলীমুর রাজী রাজীবের পদ্যবন্দী চয়নের ঝংকারে। আলমগীর হোসেনের কবিতাও একই প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের চয়নে ঋদ্ধ। সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের আলোচনায় যেন প্রকাশ পায় রামিসার অব্যক্ত যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি। সমাবেশে “”ভোরের আলো সাহিত্য আসরের আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক বিক্ষুব্দ কবি ও আলোচক হীরন আকন্দ তার উচ্চারিত বর্ণের সমষ্টিতে আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেন কেন আমাদের আজ এই দশা? কেন হতে থাকা এরূপ নৃশংস বর্বরতা সদা চলমান? তার কারণ উদ্ঘাটন না করে শুধু মামলা প্রহসন করে কিছুই লাভ হবেনা। লাভ হবেনা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে। এর সঠিক রহস্য আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। ”
তাত্ত্বিক কথার শিল্পরূপ কারিশমায় বজ্রকন্ঠে আলোচনায় ঝড় তোলেন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবি ও সাহিত্যিক আরিয়ান ফারসী। তিনি বলেন আমাকে শিশু রামিসার ওপর নির্যাতনের কবিতা লিখতে বলা হলেও আমি তা পারিনি। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো বিষাদের তরঙ্গ বয়ে যায় আমার মনে ও হৃদয়ে। কীভাবে লিখবো রামিসার ওপর সেই নরপিচাসের ঘৃণাবলী? তার ওপর অত্যাচারের খড়গ? ধর্ষণ? হত্যা? না না আমি তো
এমন সিমারের নরাত্মায় উদ্ভাসিত নই ! তাই পারিনি তা আমার বিপর্যস্থ মনের গহীনে নৃশংসতার কাব্য সাজাতে! তাই আমি আজ বেদনাহত সাদামাটা আলোচনায় নিজেকে প্রেজেন্ট করছি। ক্ষমা চাই! সবার কাছে! এমন অভিব্যক্তিতে বিক্ষুব্দ অনুষ্ঠানে এক ঘৃণার অভিভাষণে বক্তব্য সমাপ্ত করেন আরিয়ান ফারসী।
অনুষ্ঠানে আবেগের অবতারণা করেন রাহীমা আক্তার নামে এক ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়ার। রামিসার ওপর নৃশংসতার খবর পান ঢাকার মিরপুর থেকেই। আমরা কুড়ির জাতীয় প্লাটফর্ম থেকে খেলায় অংশ নিয়ে তিনি যখন ঢাকায়, তখন তাদের সাথীদের মাঝে যে বেদনাহতের ছায়া নেমে আসছিলো তার বর্ননা দিতে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েন রাহিমা। বাকী কথাগুলো কী হবে তা বুঝে নিতে হয়েছে বিক্ষুব্ধ উপস্থিতিদের। পাশাপাশি সাদিয়া জাহান রেজা প্রশান্ত কুমারের এক প্রতিবাদী কবিতা নিয়ে দাঁড়ান সমাবেশের এক পাশে। সেও আপ্লুত হয়ে পড়ে। একটানা কবিতা সেও পাঠ করতে পারেনি। কারণ রামিসার ওপর যন্ত্রণা দেবার এ স্মৃতিপট কেউ সহ্য করতে পারছেনা। নিকলীর তারিনও প্রতিরোধ নয়, প্রতিবাদের ভাষায় ভোরের আলোতে উচ্চারণ করেছেন, “আমি তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা চাই।” “আইন যখন অকার্যকর তখন হাতে তুলে নিতে চাই বিচারের দন্ড। এমন খেদের সাথেই তারিন তার পদ্যের বাক্যাবলী আওয়াজ দেন দরাজ কন্ঠে। তারপরই সাবিনা ইয়াসমিন মমতা বলে ওঠেন, আমরা এমন নিরব কেন? চলুন আওয়াজ দেই-
” বিচার চাই- বিচার চাই
রামিসা হত্যার বিচার চাই।”
“ভোরের আলো দিচ্ছে ডাক
লেখক সমাজ জাগরে জাগ।”
“এ সমাজ ভাঙ্গতে হবে
নতুন সমাজ গড়তে হবে।
“এ সমাজ ভাঙতে হবে
শান্তির সমাজ গড়তে হবে।”
“বিচার চাই-বিচার চাই
রামিসা হত্যার বিচার চাই।”
সাবিনা ইয়াসমিন এর বক্তব্য শেষ হতে না হতেই হাজির হন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের নারী পক্ষের সভানেত্রী, সুপরিচিত লেখক সুবর্না দেবনাথ। সাবিনা ইয়াসমিন এর বিপ্লবী শ্লোগানের পর সুবর্ণা দেবনাথের আর কোনো অভিব্যক্তি ছিলনা।
তারপরই ভোরের আলোর কার্যালয়ের সামনেই ব্যানার নিয়ে কিশোরগঞ্জ থানা অঞ্চল প্রকম্পিত করেন সমাবেশে থাকা নারী-পুরুষ লেখক দল। সাবিনার ইয়াসমিনের মতো শ্লোগানে শ্লোগানে আওয়াজ বুলন্দ হতে থাকে সবার কন্ঠে
“” বিচার চাই
বিচার চাই/
শিশু রামিসা হত্যার
বিচার চাই।””
সবশেষে ৭১’এর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নিজাম উদ্দিন
বিচারের আশ্বস্থতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবার অগ্নিমূর্তি নির্বাপন করেন এবং বিক্ষুব্দ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।








